সুমন চন্দ্র দে, মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্মবাজার জেলার পাহাড়, সবুজের সমারোহ প্রকৃতির অনন্য বৈশিষ্ট্যের এবং প্যারাবনে বেষ্টনী দ্বারা প্রাকৃতিক সমৃদ্ধ দ্বীপ মহেশখালী উপজেলা। এই দ্বীপটিকে রক্ষা করতে সরকার ও বন বিভাগের কঠোর পরিশ্রম করে তৈরি করা প্যারাবন (রক্ষা কবচ) আজ ভূমি দস্যুদের দ্বারা ধংসের দিকে।
সরজমিনে জানা যায় – মহেশখালী কুতুবজোম ইউনিয়নের কৈতরের দিয়া নামক এলাকায় প্যারাবনের ছোট ছোট বাইন গাছ ধ্বংস করে চিংড়ি প্রকল্প তৈরি করছে ভূমিদস্যুরা। প্রভাবশালীরা একাট্টা হওয়ায় সরকারী জায়গায় মৎস্য প্রকল্প নিমার্ণ কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না।
গত এক সপ্তাহে ধরে ওই এলাকায় প্যারাবনের প্রায় কয়েক শত একর জায়গা দখল করে খননযন্ত্র স্কেভেটর দিয়ে চিংড়িঘেরের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বিরতিহীনভাবে। নষ্ট করা হয়েছে প্যারাবনের অন্তত কয়েক লাখ বাইনগাছের চারা।
উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের কৈতরের দিয়া প্যারাবন দখল করে চিংড়িঘের তৈরির হিড়িক পড়েছে। লবণ মাঠের জন্য প্যারাবন দখলকে কেন্দ্র করে ঘটিভাঙায় গত ২ মার্চ দুই পক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষের দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এরপরও প্যারাবন দখল থেমে নেই।
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্র জানায়, গোরকঘাটা পৌরসভা এলাকার খোকন সিকদার, কুতুবজোমের আমির হোছেন (৫২) পিতা- মৃত মোস্তাক আহমদ, দুদু মিয়া (৫৫) পিতা- মৃত খুইল্যা মিয়া, মাসুদ আলম (৪০) পিতা- মৃত ফয়জুল করিম, নাছির উদ্দিন (৫০) পিতা- মৃত ফোরকান আহমদ, সোহেল (৪০) পিতা- মৃত কবির আহমদ। সবাই কুতুবজোম এলাকার নয়াপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা। শতাধিক শ্রমিক নিয়ে দিনদুপুরে তাঁরা প্যারাবন কেটে খননযন্ত্রের (এক্সকাভেটর) মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- সরকারি প্যারাবনের হাজার হাজার নুইন্যা গাছ কেটে প্রায় ৫শ একর সরকারি জায়গা দখল করছে ভূমিদস্যুরা।
অন্যদিকে বন বিভাগের লোকজন গিয়ে তাদেরকে বাধা দিলে তারা বনকর্মীদের বোট ভাড়া দিয়ে তাড়িয়ে দেন বলে অপকটে স্বীকার করেন এক ভূমিদস্যু…
স্থানীয়রা আরো জানান – স্থানীয় নেতা, ক্ষমতাশালী, প্রভাবশালী ও বিত্তশালীদের বড় অংশই প্যারাবন নিধন ও সরকারি জমি দখলে ইতোমধ্যে জড়িয়ে গেছে। ম্যানেজ হয়ে আছে প্রশাসন, এ নিয়ে আর কথা বলার কেউ নাই বললেই চলে। হুমকি ও অর্থের কাছে নীরব হয়ে আসছে এ নিয়ে আওয়াজ তোলা মানুষগুলোও..(!)। বাকিটা ‘উন্নয়নের বলি মহেশখালী’র ভাগ্যের উপর।
পরিবেশবাদী সংগঠন “দরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা” মহেশখালীর আহবায়ক মৌলভী ইউনুচ জানান, চিংড়িঘের ও লবণ মাঠের জন্য প্যারাবন ধ্বংসের বিষয়টি বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হলেও প্রতিকার মিলছে না। গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আইয়ুব আলী বলেন, খোঁজ-খবর নিয়ে অভিযান চালানো হবে।


