ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপকে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA)। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ ফিফার অধীনে আয়োজিত সব প্রতিযোগিতা, এমনকি বিশ্বকাপও বর্জন করতে পারে।
জরুরি বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, সদস্যদেশগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফিফার টুর্নামেন্টে ব্যক্তিমালিকানার পরিকল্পনা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কোনো উয়েফাভুক্ত জাতীয় দল ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
কেন এই বিরোধ?
সম্প্রতি ফিফা ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE)’ নামে প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার মূল্যের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব রয়েছে।
মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Thrive Eternal-এর নেতৃত্বে থাকা জশুয়া কুশনার সম্ভাব্য প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩১ মেয়াদে FIFA Forward কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলার করা হবে। পাশাপাশি এককালীন আরও ২ কোটি ডলার দেওয়া হবে সমর্থনকারী সদস্যদের। তবে প্রস্তাব পাস না হলে অনুদান ১ কোটি ডলারে সীমিত থাকবে।
উয়েফার অভিযোগ, এই আর্থিক প্রস্তাবের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
উয়েফা বলছে, বিশ্বকাপ কোনো বাণিজ্যিক পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়।
সংস্থাটির মতে, একবার বিনিয়োগকারীরা মালিকানায় অংশীদার হলে ফুটবলের সিদ্ধান্ত খেলাটির উন্নয়নের জন্য নয়, বরং শেয়ারহোল্ডারদের মুনাফার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হবে।
উয়েফা আরও জানিয়েছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন ব্যক্তিদের হাতে তুলে দেওয়া যায় না, যাদের প্রধান লক্ষ্য লাভ করা। বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের সম্পদ এবং এটি বিক্রির জন্য নয়।
ইউরোপের দেশগুলো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম। সর্বশেষ বিশ্বকাপের আট কোয়ার্টার-ফাইনালিস্টের ছয়টিই ছিল ইউরোপের দল। স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জার্মানি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের মতো দল না থাকলে বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক মান, দর্শক আগ্রহ এবং বাণিজ্যিক মূল্য বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের ভোটে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের সমর্থনও প্রয়োজন। ফলে ইউরোপের বাইরে অন্যান্য কনফেডারেশনের অবস্থানও এই ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফুটবলবিশ্বের নজর এখন ১৯ সেপ্টেম্বরের ভোটের দিকে। এই সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
আরু/


