ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি ইউসিসি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রোববার মুম্বাইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
অমিত শাহ বলেন, কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যে ইউসিসি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসিত ২১টি রাজ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির আওতায় ধর্মভেদে আলাদা ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তকসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিষয়ে অভিন্ন নিয়ম চালুর কথা বলা হয়েছে।
উত্তরাখণ্ডে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে ইউসিসি কার্যকর রয়েছে। ২০২৬ সালে গুজরাট ও আসামও ইউসিসি-সংক্রান্ত আইন পাস করেছে।
তবে এই উদ্যোগকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কও রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে অভিন্ন আইন চালু হলে তাদের প্রচলিত ব্যক্তিগত আইনের কিছু বিধান পরিবর্তিত হতে পারে।
অন্যদিকে, ইউসিসির সমর্থকদের বক্তব্য, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা, উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমতা এবং বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরির মতো পরিবর্তন আসতে পারে।
ভারতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ২০ কোটির বেশি। ফলে ব্যক্তিগত আইন পরিবর্তনের যেকোনো উদ্যোগ দেশটির বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ২০২৯ সালের আগেই ২১টি এনডিএ-শাসিত রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়নের অমিত শাহের ঘোষণা ভারতের ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরু|



