ইউরোপের মাটিতে রচিত হলো বাংলাদেশ ফুটবলের এক নতুন এবং সোনালী অধ্যায়। সান মারিনোর সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের ২–১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়। একই সাথে এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে কোচ হিসেবে অভিষেক হলো টমাস ডুলির। সব মিলিয়ে তপু-হামজাদের এই জয় চেনা ছক ভেঙে এক অচেনা সাহসের গল্প।
সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন ইউরোপীয় বসন্তের হাওয়া, আর মাঠে চলছিল ৯০ মিনিটের এক স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী গোলটি আসে শেষ মুহূর্তে।
খেলার ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর নেওয়া দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে ভলি করেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। সাধারণত ফুলব্যাক পজিশনে খেললেও এদিন তাকে রাইট উইংয়ে নামিয়ে চমক দেখান কোচ ডুলি। বিশ্বনাথের সেই ভলির পর মাটিতে পড়ে থাকা তপু বর্মণ উঠে দাঁড়ানোর মুহূর্তে বল তার মাথায় লেগে জড়িয়ে যায় সান মারিনোর জালে। ম্যাচে বাংলাদেশের পক্ষে দুটি গোলই করেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোচ টমাস ডুলি দলে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামানো হয় সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে।
জায়ান ও সামিত মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি বহুগুণ বেড়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের একটি দারুণ শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।
তবে ম্যাচটিতে বাংলাদেশ কেবল রক্ষণাত্মক বা কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল খেলেনি, বরং বল পজিশনে রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বলের দখল নিজেদের কাছে রাখা এবং ২৪৪টি সফল পাস দেওয়া সেই দক্ষতারই প্রমাণ।
ম্যাচের শেষ দিকে চতুর্থ রেফারি ৪ মিনিট ইনজুরি সময় যোগ করলে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সান মারিনো। যোগ করা সময়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফস্কে বল গোললাইনের দিকে চলে যায়। তবে বলটি গোললাইন পুরোপুরি অতিক্রম না করায় নিশ্চিত আত্মঘাতী গোল হজম থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শেষ ২ মিনিট অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পার করে জয়ের উল্লাসে মাতে ডুলির শিষ্যরা।
ফিফা র্যাংকিংয়ে সান মারিনো তলানিতে থাকলেও ইউরোপীয় অঞ্চলের দল হওয়ায় তারা নিয়মিত জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রাখে। তাছাড়া ইউরোপের মাটিতে এটিই বাংলাদেশের প্রথম জয়।
এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে খেললেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২০০১ সালে ভারতের মাটিতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজরা।
ফলে দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে সান মারিনোর বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আরু



