বিশ্বকাপের মঞ্চে দারুণ লড়াইয়ের ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে হার এড়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বল দখল, হাই প্রেসিং ও দ্রুত আক্রমণ–পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধ জমে ওঠে। বিশেষ করে মরক্কো শুরুতে ব্রাজিলকে চাপে রাখে এবং একের পর এক আক্রমণ চালায়।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াজের চমৎকার থ্রু পাস পেয়ে ইসমাইল সাইবারি ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান। গোলরক্ষক অ্যালিসনকে পরাস্ত করে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে মরক্কো। প্রথম ৩০ মিনিটেই তারা ১২টি শট নেয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচের পর কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে ব্রাজিল এত বেশি শটের মুখোমুখি হয়নি।
তবে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস পেয়ে বক্সের ভেতরে দারুণ দক্ষতায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শক্তিশালী শটে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করেন তিনি।
ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের ৫০তম ম্যাচ এবং জাতীয় দলের হয়ে তার ১০ম গোল। পরিসংখ্যান বলছে, ভিনিসিয়ুস গোল করা ম্যাচে এখনো হারেনি ব্রাজিল। এই ম্যাচেও সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন থাকল।
বিরতির পর দুই দলই কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেলেছে। আক্রমণের চেয়ে রক্ষণে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ে ব্রাজিল এক পয়েন্ট পেলেও মরক্কোর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা আফ্রিকার দলটি আবারও প্রমাণ করেছে, তারা এখন বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে সক্ষম।
এদিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিপক্ষে এটি ছিল মরক্কোর প্রথম গোল। এর আগে ১৯৭০ সালে পেরু এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেললেও গোলের দেখা পায়নি উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
আরু/



