জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। তাও আবার ঘন ঘন বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ এখন যেন “আসা-যাওয়ার খেলা” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিন ও রাত মিলিয়ে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। রাতের দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সানন্দবাড়ী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পচনশীল খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কম্পিউটারভিত্তিক সেবা, ফটোকপি, অনলাইন ও ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রমও বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প ও উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো সময়মতো কাজ শেষ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
লোডশেডিংয়ের বড় প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। কয়েকজন অভিভাবক জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। তীব্র গরমে তারা পড়ার টেবিলে বসে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। পরীক্ষার প্রস্তুতি, অনলাইন ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট এবং ইন্টারনেটনির্ভর শিক্ষাকার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে পড়েছেন এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা।
খামার মালিকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো পশু-পাখির খাবার প্রস্তুত, পানির ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে না। অতিরিক্ত গরমে গবাদিপশু ও মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশের অনেক এলাকার তুলনায় সানন্দবাড়ীতে তুলনামূলক বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। অথচ নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও প্রতি মাসে পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি এবং চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ার কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহও উন্নত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত সানন্দবাড়ী এলাকায় স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশে চলমান বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ ও জাতীয় গ্রিডে চাপের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে সানন্দবাড়ীর বাসিন্দাদের দাবি, তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মাত্রা অন্য অনেক এলাকার তুলনায় অনেক বেশি।
আরু/


