গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে দলটির রাজনৈতিক অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন করে সক্রিয় হচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
সোমবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কর্মসূচি এবং পাল্টা কর্মসূচি দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এসব কর্মসূচির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনমনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। অনেক নেতাকর্মী দেশের বাইরে চলে গেছেন কিংবা ভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তবে তারা আবারও নতুনভাবে সংগঠিত ও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন এমন গুঞ্জন বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রনি। তার মতে, এসব আলোচনা বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও নিজ নিজ অবস্থানে রয়েছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রনি বলেন, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্রিয় রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, দেশের রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সংলাপ জরুরি।
আরু/



