সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।
আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান (আইপিএইচএন)।
ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ শিশুকে একটি লাল রঙের উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
দেশব্যাপী প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং প্রায় ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র—যার মধ্যে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও ফেরিঘাটও রয়েছে—থেকে শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ কাজে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরদিন সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তা গ্রহণ করা যাবে। এছাড়া দুর্গম এলাকার শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ১২ জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় আরও চার দিন বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে শিশুদের রাতকানা রোগ ও ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি দূর করতে ১৯৭৩ সালে প্রথম এ কর্মসূচি চালু হয়। সে সময় এর নাম ছিল ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’।
পরবর্তীতে ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সঙ্গে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম যুক্ত করা হয়। ২০০৩ সালে এটি স্বতন্ত্র কর্মসূচি হিসেবে ‘জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন’ নামে পরিচালিত হতে শুরু করে।
এরপর ২০১১ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) অপারেশন প্ল্যানের আওতায় কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। ২০২৫ সালের মার্চে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ২০২৬ সালে পুনরায় জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং অপুষ্টিজনিত মৃত্যুঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আরু/


