স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮০ জন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র জানান, দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে ৫০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে জানান, আহতদের মধ্যে অনেকেই সামান্য থেকে মাঝারি ধরনের আঘাত পেয়েছেন। তবে কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের স্বজনদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য প্রতিবেশী অঞ্চলগুলো থেকেও সহযোগিতা আসছে। এ সময় সবাইকে শান্ত থাকার এবং উদ্ধারকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনই কোনো অনুমান করতে রাজি হননি আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দায়িত্ব বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের।
এর আগে গত জানুয়ারিতে স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আদামুজের কাছে আরেকটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি উচ্চগতির ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ৪৬ জন নিহত হন এবং আহত হন দেড় শতাধিক মানুষ।
২০১৩ সালের পর জানুয়ারির ওই দুর্ঘটনাকে স্পেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৩ সালে দেশটিতে আরেকটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ৮০ জন নিহত হয়েছিলেন।
পরপর ভয়াবহ এসব দুর্ঘটনা স্পেনের বিস্তৃত উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরু|



