চট্টগ্রামে আদালতে জামিন শুনানির সময় অসংলগ্ন কথা বলা ও অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগে আইনজীবী মো. শাহেদুল হকের সদস্যপদ স্থগিত করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একই সঙ্গে আগামী দুই বছর চট্টগ্রামের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না তিনি।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সমিতি সূত্রে জানা গেছে, আদালতে শাহেদুল হকের অস্বাভাবিক আচরণের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির কাছে তিনি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তবে তাঁর বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে শাহেদুল হকের ডোপ টেস্ট করানোর কথা থাকলেও তিনি তা করাননি। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তাঁর সদস্যপদ স্থগিত এবং আগামী দুই বছরের জন্য চট্টগ্রামের আদালতগুলোতে মামলা পরিচালনায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সমিতির সিদ্ধান্তের বিষয়টি আদালতকেও চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হালিশহর থানার একটি নালিশি মামলার আসামি এমরান চৌধুরীর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী শাহেদুল হক।
মামলাটির শুনানির শুরুতে বাদীপক্ষের আইনজীবী শ্যামলী চৌধুরী আদালতকে জানান, আসামির আইনজীবী আদালতে আসতে চাইছেন না। তাই তিনি নিজেই জামিনের শুনানি করতে চান। একই সঙ্গে আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলেও জানান।
এ সময় আদালত জানতে চান, বাদীপক্ষের আইনজীবী আসামির জামিনের শুনানি করতে পারেন কি না। বিচারক বলেন, জামিন শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি প্রয়োজন।
পরে বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালতে উপস্থিত হন শাহেদুল হক। শুনানির সময় তিনি বলেন, ‘আসামি ভুল করেছে, আর ভুল করবে না। আদালতের কাছে জামিন চাই।’
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, শুনানির সময় শাহেদুল হকের কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং তাঁর পোশাক-পরিচ্ছদও স্বাভাবিক ছিল না। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিনি মদ্যপান করেছেন বলে বিচারকের কাছে প্রতীয়মান হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্ট করানোর নির্দেশ দেন আদালত।
তবে শাহেদুল হকের ডোপ টেস্টের কোনো ফলাফল পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে তদন্তের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে পেশাগত নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দুই বছর চট্টগ্রামের কোনো আদালতে মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না আইনজীবী মো. শাহেদুল হক।
আরু|



