বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যেও তেহরানের কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনায় কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫৯ সেন্ট বা প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
এর আগের দিনের লেনদেনে দুই বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত আসার পর বাজারে আবারও দরপতন শুরু হয়। যদিও সংঘাত নিরসনের শর্ত ও পদ্ধতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
তেলের দামে সাম্প্রতিক ওঠানামার পেছনে শুধু কূটনৈতিক পরিস্থিতিই নয়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহন অবকাঠামোর কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক জলপথে তেল চলাচল বাড়ার খবরও বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।
তবে তেলের বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে যেকোনো নতুন বাধা দামকে আবারও ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে আগস্টে ব্রেন্টের গড় দাম জুলাইয়ের তুলনায় বেড়েছিল।
অন্যদিকে, তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি বলেছেন, জ্বালানি ও অন্যান্য সরবরাহজনিত চাপের সঙ্গে যদি চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতিও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ফেডারেল রিজার্ভকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করতে হতে পারে।
অর্থাৎ, একদিকে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা ও তেল সরবরাহ বাড়ার প্রত্যাশা দাম কমাচ্ছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ ঝুঁকি এখনো বাজারকে অস্থির করে রাখছে। ফলে সামনে তেলের দাম কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার গতির ওপর।
আরু|



