বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা উপকূল অতিক্রম করলেও এর প্রভাব কাটেনি বাংলাদেশে। ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে থাকা গভীর নিম্নচাপটি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি উপকূলীয় এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ হিসেবে অবস্থান করছে। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
তবে এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে দেশের কয়েকটি নদীবন্দরেও ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
অর্থাৎ, গভীর নিম্নচাপটি বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি আঘাত না করলেও এর প্রভাবে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় এখনো বৈরী আবহাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সমুদ্রগামী নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরু|



