ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে থাকা ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সিআইডির উপপরিদর্শক আবদুল লতিফ ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারীও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে খুন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ জোগান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিআইডির অনুসন্ধানে ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সেই লেনদেনের প্রকৃতি ও অর্থের উৎস নিয়েও তদন্ত করা হয়।
মামলার তদন্তে ফয়সালের আর্থিক কর্মকাণ্ড, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন এবং অর্থের সম্ভাব্য উৎস ও গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এসব অর্থ অপরাধলব্ধ কি না এবং সেগুলো স্থানান্তর বা গোপনের মাধ্যমে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে কি না তদন্তে তা যাচাই করা হচ্ছে।
আইনগতভাবে, ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদালতের আদেশ নিজেই কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হাদি হত্যা মামলার পাশাপাশি এখন ফয়সালের আর্থিক কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় এসেছে। ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের মাধ্যমে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত আরও বিস্তৃত হয়েছে।
আরু|



