গিনির রাজধানী কোনাক্রির সবচেয়ে বড় আবর্জনা ফেলার স্থানে বিশাল আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববার ভোরে ভারী বৃষ্টির পর কোনাক্রির বেসিয়া জেলার দার-এস-সালাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধসে পড়া আবর্জনার বিশাল স্তূপের নিচে আশপাশের বেশ কয়েকটি ঝুপড়িঘর চাপা পড়ে যায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষদের সন্ধান, জীবিতদের উদ্ধার এবং মরদেহ উদ্ধারে বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আমাদু উরি বাহ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপের মধ্যে খননযন্ত্র দিয়ে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায়।
দার-এস-সালাম এলাকার প্রধান লানসিন সিলা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ল্যান্ডফিলটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ধসের আশঙ্কায় সরকার ল্যান্ডফিলের আশপাশের এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছিল।
গিনির বিরোধী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেলু ডালিন ডায়ালো ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ হিসেবে উল্লেখ করে এর কারণ এবং দুর্ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গিনিতে বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেনারেল মামাদি দুম্বুইয়া। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর তিনি দেশটির নেতৃত্বে আসেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরু|



