বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে আবারও বাড়তে শুরু করেছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৫৭ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সর্বশেষ দুই মৃত্যুর ঘটনায় চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে। আর এ বছর এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩১৭ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জন, ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ১১ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং খুলনা বিভাগে ১৬ জন রয়েছেন।
এদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখনো যেসব জেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি সেগুলো হলো—শরীয়তপুর, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়।
তুলনামূলকভাবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে বর্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। গত বছর ১৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৭ জন এবং মারা যান ৩০ জন।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশন মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি দ্রুত অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরু/


