চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা এক বিএনপি নেতাকে রাজধানীর উত্তরায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তিকে মামলার এজাহারে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসামি করা ওই ব্যক্তি পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের বুধপুরা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ কাইছ (৪০)। তিনি পটিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২২ সালের এনাম-খোরশেদ কমিটির সদস্য ছিলেন।
আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বাকলিয়া থানা পুলিশ চট্টগ্রামের কল্পলোক আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৮ এ হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
তবে সম্প্রতি জামিনে মুক্তির প্রক্রিয়ার সময় তাকে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মোহাম্মদ কাইছ বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সম্পাদক এবং ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার আজমপুর এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং হামলাকারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
চট্টগ্রাম আদালতের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো মামলার এজাহারে নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। যদি কোনো ব্যক্তির অবস্থান, রাজনৈতিক পরিচয় বা ঘটনার সময়কাল নিয়ে অসঙ্গতি থাকে, তাহলে তদন্তকারী সংস্থার উচিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে যাচাই করা।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলায় ছাত্র জাহিদুজ্জামান তানভীন নিহত হন। ওই ঘটনায় মোহাম্মদ কাইছসহ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
কাইছের পরিবারের দাবি, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য, চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি থাকা একজন বিএনপি নেতাকে ঢাকার একটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল আলম খান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”
পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, “বিএনপি নেতা মোহাম্মদ কাইছকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বানিয়ে তাকে কারাগারে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তিনি কারাগারে ছিলেন। বিএনপি নেতাকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বানিয়ে পার পাওয়া যাবে না।”
আরু/



