স্টাফ রিপোর্টার ,মানিকগঞ্জঃ
গত মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা (২৬) বাল্লা ইউনিয়নের সুরাই গ্রামের ছোরহাব উদ্দিনের ছেলে।ভুক্তভোগী ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় ডিশের লাইনের কাজ করেন।
ভুক্তভোগী মাসুদ রানা বলেন,গত কিছু দিন আগে আমি ছুটিতে আমার বাসায় আসি।ঘটনার দিন আমার চাচাকে নিয়ে ফসলি জমির জন্য ঔষধ কিনতে পাশের এলাকার বাস্তা বাজারে যাই। বাজারের ভিতরে টাকা ভাংতি করার জন্য গেলে পাশ্ববর্তী শিবালয় উপজেলা শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মানিকের মুখোমুখি হই।তখন তিনি আমার শার্ট ধরে টেনে নিয়ে বলে, আমি কেন তার দিকে তাকালাম আর সালাম দিলাম না?তখন তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার পায়ের জুতা খুলে আমাকে মারতে থাকে।এরপর তার ছেলে এসে আমাকে কিল-ঘুষি মারে।এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মানিক আমাকে টেনে একটা চুল কাটার স্যালুনে নিয়ে গিয়ে আমার মুখে রাখা দাড়ি জোর করে কেটে দেয়।আমি চিৎকার করলে বাজারের মানুষ জড়ো হতে থাকে।তখন আমাকে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়।আমি এই ঘটনায় অনেক অসুস্থ হয়ে পরেছি।আমি এখন খুবই ভয়ের মধ্যে আছি।আমি প্রশাসনের কাছে আইন অনুযায়ী এর সঠিক বিচার চাই। স্থানীয় অনেকই জানান, পাশ্ববর্তী শিবালয় উপজেলা শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মানিক ও তার ছেলে দিপু মাঝে মধ্যে বিনাকারনে মানুষের গায়ে হাত তোলেন। ছেলে দিপু ও তার সাথে থাকা দলবল স্কুলে যাওয়ার সময় রাস্তায় মেয়েদেরকে মাঝে মধ্যে বিরক্ত করে। তাদের এই অপকর্মের বিচার কেউ করতে সাহস পায় না। প্রশাসনের নিকট শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মানিক ও তার ছেলে দিপুর এমন অপকর্মের সঠিক বিচার দাবি করেছেন তারা।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত পার্শ্ববর্তী শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মানিকের নিকটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।আমার ছেলের সাথে ওর আগের একটা ঝামেলা ছিলো।এই নিয়ে একটু ধাক্কা ধাক্কি হইছে।ওই ছেলেটা মাদকাসক্ত। গতবারেও মারামারি হয়েছিল।মাদকের বিষয়ও হতে পারে।অন্য বিষয়ও হতে পারে,আমি জানি না।আমি আমার ছেলেকে ধমক দিয়ে ওখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।
সাংবাদিক দাড়ি কাটার বিষয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ারম্যান উত্তরে বলেন,আপনি প্রমাণ করেন আমি ওর দাড়ি কেটেছি এবং গায়ে টাচ করেছি ।আমি শুধু ওরে বলেছি ,তোমার বয়স কম।এইভাবে চুল আর দাড়ি রাখা ঠিক না।শেভ করে তুমি বাড়ি যাও।আমি শুধু এইটুকুই বলেছি। এর বাহিরে কিছুই ঘঠেনি।
এই বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা( ওসি) শাহ-নুরে নুর আলম সাংবাদিকদেরকে জানান,এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


