লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। তিনি জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান শাহেদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার ফিরোজ আলমের ছেলে। তিনি দালালবাজার ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক।
অন্যদিকে, আহত জুয়েল হোসেন নিরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি সাহাপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, একটি মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে জুয়েল ও শাহেদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে রোববার রাতে সাহাপুর এলাকায় একটি বৈঠক হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা চালানো হয় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসা নিতে জুয়েল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে সেখানে আবারও তার ওপর হামলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে শাহেদের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে জরুরি বিভাগে থাকা কাঠের চেয়ার দিয়েও তাকে পেটানো হয়। এতে জুয়েল রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় হাসপাতালের আসবাবপত্র ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় জুয়েলের বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে সোমবার রাতে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় আব্দুর রহমান শাহেদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, জুয়েলকে মারধরের ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় শাহেদকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের মতো চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে ঢুকে হামলার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরু|



