সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বন্দি অবস্থায় আছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তার ধারণা, শেখ হাসিনা হয়তো অসুস্থ। এ কারণেই তাকে সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ সম্মেলন বা প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও প্রকাশ্যে না আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এ মন্তব্য করেন আসিফ নজরুল।
শেখ হাসিনা কেন অডিওতে যুক্ত হচ্ছেন, ভিডিওতে বা সরাসরি কেন আসছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, তার মনে হয় শেখ হাসিনা হয়তো কিছুটা অসুস্থ। তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেলে তার সমর্থকরা মনোবল হারাতে পারেন এমন আশঙ্কাও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে শেখ হাসিনাকে ভারতে বন্দি করে রাখা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, তাকে বন্দি করে রাখার কথা নয়।
টকশোতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু থাকলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকানো, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানুষের স্বস্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই দলটির কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আলোচনায় উঠে আসে আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাটিও। উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন, ছাত্রনেতাদের একটি অংশ তার ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে প্রতিবাদ হিসেবে তার সন্তানের পোষা ছাগল নিয়ে গিয়ে খেয়ে ফেলেছিল কি না।
জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্রদের মধ্যে নাহিদ, আসিফ ও আখতারের সঙ্গে তার সবসময়ই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে বাইরে থেকে আসা কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকায় ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে।
ছাগল চুরির ঘটনাটিকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছে এ কথা তিনি বিশ্বাস করেন না। তার দাবি, পুরো ঘটনাটি মজা করেই করা হয়েছিল।
আসিফ নজরুল জানান, ছাগলটি ছিল তার সাড়ে ৯ বছর বয়সী মেয়ের পোষা প্রাণী। মেয়েটি ফুলার রোড থেকে হেয়ার রোডে যাওয়ার পর নতুন পরিবেশে একাকিত্ব ও মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্যই ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল।
তার ভাষ্য, ছাগলটির সঙ্গে মেয়ের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন মেয়ের স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকত ছাগলটি। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েটি তার সঙ্গে খেলত। এমনকি নিজের ফোনের ছবিতেও ছাগলটির ছবি রেখেছিল।
ঘটনার পর মেয়েটি কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং প্রায় দেড় দিন কিছু খেতে পারেনি বলেও জানান আসিফ নজরুল। তবে ছাগলটি কীভাবে মারা গেছে বা সেটি খেয়ে ফেলা হয়েছে এখনও তার মেয়ে জানে না।
মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পরিবার তাকে জানিয়েছে, দরজা খোলা পেয়ে ছাগলটি চলে গেছে।
ছাগলটি চুরির ঘটনাকে প্রতিশোধ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি নিয়েই মূলত তিনি আপত্তি জানিয়েছেন বলে জানান আসিফ নজরুল। ঘটনাটিকে তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরু|



