গরম যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে বিদ্যুতের সংকট। দিনে-রাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। আর বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এখনই কার্যকর পরিকল্পনা না নিলে সামনে সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
প্রতি বছর গরমের সময়ে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এবার সেই চাপ পড়েছে রাজধানীতেও।
বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে নিয়মিত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও ছোট ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কখনো দিনে, কখনো রাতে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আবার ফ্রিজ বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে খাবার ও ব্যবসার পণ্য। কিন্তু জেনারেটর চালানোর সামর্থ্য নেই অনেকের।
পিডিবির তথ্য বলছে, গত ১০ আগস্ট রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। এর এক মাস পর, ১০ সেপ্টেম্বরও লোডশেডিং ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট।
ওই দিন আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহও নেমে আসে প্রায় অর্ধেকে।
এদিকে, চলতি বছর কোনো কোনো দিনে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত চাহিদা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
অন্যদিকে এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেলের ঘাটতি এবং আদানি থেকে সরবরাহ কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান সামলাতে বাড়ছে লোডশেডিং।
আইইইএফএ-এর প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলমের মতে, গরমের সময়কাল আগের তুলনায় দীর্ঘ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরে এসেও তীব্র গরম থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ছে। তাই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদন ব্যয় ও সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র সামান্য রক্ষণাবেক্ষণে চালু করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুত সচল করা প্রয়োজন।
পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহর প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা বলা হলেও বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না কেন?
আগামী দিনের সংকট ঠেকাতে বিশেষজ্ঞরা দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কারণ, চাহিদা বাড়ছে প্রতিদিন কিন্তু উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকলে লোডশেডিং থেকে মুক্তি মিলবে কীভাবে? এখনই কার্যকর পরিকল্পনা না হলে তীব্র গরমের সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটও যে আরও তীব্র হতে পারে, সেই আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরু|



