অক্টোবরের মধ্যেই কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিমানবন্দরটি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, যাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বিভাগকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি বন্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ব্যাগেজ কাটা বন্ধ করা হয়েছে। তবে বিমানে যাত্রী হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ করা এখনও সম্ভব হয়নি। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিমানকে গড়ে তুলতে কাজ চলছে।
বিমান পরিচালনায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সম্মানের সঙ্গে সরে যেতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যারা ভালো কাজ করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। বিমানের খাবারের মান উন্নত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিমানকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। মধ্য সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্পের কন্ট্রাক্ট সই হওয়ার আশা করা হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বর সফট ওপেনিং সম্ভব হলেও প্রয়োজন হলে ভালোভাবে উদ্বোধনের জন্য আরও সর্বোচ্চ তিন মাস সময় নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে দুর্নীতির তদন্তও চলছে বলে জানান তিনি।
বিমানের বহর নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩১ সালে বোয়িংয়ের নতুন বিমান বহরে যুক্ত হবে। এর আগ পর্যন্ত কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি বিমান লিজ নেওয়া হবে। আগামী বছরের শুরুতেই এসব বিমান বহরে যুক্ত করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে লিজ চুক্তি করতে চায় সরকার। পাশাপাশি পরবর্তী বছরে নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানে বিমানবন্দর থাকা জরুরি। অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে এবং বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইউরেনিয়াম পরিবহনেও এই বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান তিনি।
দেশে আপাতত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাজেট এয়ারলাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেন চালুর বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার মতে, দ্রুতগতির ট্রেন চালু হলে দেশে বর্তমানে যত বেশি বিমানবন্দর প্রয়োজন হচ্ছে, ভবিষ্যতে তত বেশি বিমানবন্দরের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
আরু|



