বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে লিঙ্গ-যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের জেরে জাতীয় পর্যায়ের দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি।
শনিবার অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় তাদের জাতীয় প্রতিযোগিতায় অর্জিত সব পদক বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জান্নাত বেগম থ্রো ইভেন্টের অ্যাথলেট এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন। অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায় স্প্রিন্টার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। দুজনই এতদিন নারী বিভাগে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।
বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের তথ্য অনুযায়ী, জান্নাত বেগম নারী জ্যাভলিন থ্রোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২২ সালের বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ৪৫.৬০ মিটার ছুড়ে প্রথম হন। একই বছর ৪৬.০৬ মিটারের পারফরম্যান্স করে জাতীয় রেকর্ডও গড়েছিলেন।
অন্যদিকে কবিতা রায়কেও বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের রেকর্ডে বাংলাদেশের নারী ১০০ মিটার স্প্রিন্টের প্রতিযোগী হিসেবে পাওয়া যায়। ২০২২ সালের বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ১২.৩৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন।
ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, দুজনের লিঙ্গ-যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর আগের কমিটি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। গত ১১ মে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হয় এবং ১৬ মে ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে জান্নাত বেগমের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯.৬৬ nmol/L এবং কবিতা রায়ের ১৬.৫০ nmol/L পাওয়া গেছে বলে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ফেডারেশনের দাবি, এই মাত্রা নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের ২.৫ nmol/L সীমার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের ২০২৩ সালের DSD-সংক্রান্ত নিয়মে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ২.৫ nmol/L-এর নিচে টানা অন্তত ২৪ মাস বজায় রাখার শর্ত ছিল।
তবে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস ২০২৫ সালে নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছে, যেখানে একবারের SRY জিন পরীক্ষা বা sex-verification testing-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে ২.৫ nmol/L-সংক্রান্ত পুরোনো নিয়মকে বর্তমান বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপনের বক্তব্য অনুযায়ী, মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দুই অ্যাথলেটের জাতীয় পর্যায়ের সব পদক বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, জান্নাতের কয়েকটি স্বর্ণসহ মোট নয়টি পদক এবং কবিতার প্রায় চারটি পদক রয়েছে। এসব পদক সংশ্লিষ্ট ফলাফল থেকে বাতিল বা ‘বডিলি শিফট’ করা হবে।
ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নারী বিভাগে জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটিকসে তাদের আর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না বলে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী বিভাগে অংশগ্রহণের যোগ্যতা, লিঙ্গ-পরিচয়, হরমোন পরীক্ষা এবং অ্যাথলেটদের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা, প্রযোজ্য ক্রীড়া বিধিমালা এবং অ্যাথলেটদের আপিলের সুযোগ_এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরু|



