বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা করেছেন। প্রায় ১৮ বছর আগে মুম্বইয়ের পশ্চিম আন্ধেরিতে কেনা একটি অফিস সম্প্রতি কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করেছেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৮ সালে মাধুরী দীক্ষিত ওই অফিসটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার রুপিতে কিনেছিলেন। সম্প্রতি সেটি প্রায় ২.৬৯ কোটি রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি এই বিনিয়োগ থেকে তিনি প্রায় ২.১৬ কোটি রুপিরও বেশি মুনাফা অর্জন করেছেন।
রিয়েল এস্টেট অ্যানালিটিক্স সংস্থা CRE Matrix-এর তথ্য অনুযায়ী, অফিসটি কিনেছে Frames Production Company Private Limited। পশ্চিম আন্ধেরিতে অবস্থিত অফিসটির আয়তন ১,৫৯৪.২৪ বর্গফুট এবং এর সঙ্গে রয়েছে তিনটি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় প্রায় ৩০ লাখ রুপি স্ট্যাম্প ডিউটি পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সম্প্রতি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়া মাধুরী অভিনীত চলচ্চিত্র ‘মা বহেন’ সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। এর মধ্যেই রিয়েল এস্টেট লেনদেনের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী।
মাধুরী ও তাঁর স্বামী ড. শ্রীরাম নেনে দীর্ঘদিন ধরেই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে আসছেন। চলতি বছরের মার্চে মুম্বইয়ের লোয়ার প্যারেলের ওয়ান লোধা প্লেস-এ ৭৩১ বর্গফুটের একটি অফিস পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন তারা। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জুহুর একটি ফ্ল্যাট ৩.৯ কোটি রুপিতে বিক্রি করেছিলেন, যা তারা ২০১২ সালে প্রায় অর্ধেক দামে কিনেছিলেন।
শুধু মাধুরী নন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বলিউডের অনেক তারকাই রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে উল্লেখযোগ্য লাভ করেছেন। অক্ষয় কুমার সম্প্রতি মুম্বইয়ের মুলুন্ড পশ্চিমে দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে কয়েক কোটি রুপি মুনাফা করেন। অন্যদিকে, অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকরও নিজের একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করেছেন।
এদিকে, বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ‘মন্নত’ বাংলোও রিয়েল এস্টেট মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০১ সালে প্রায় ১৮ কোটি রুপিতে কেনা এই বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩০০ কোটিরও বেশি। যদিও এটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনার কথা জানা যায়নি।
রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, মুম্বইয়ের অভিজাত এলাকায় সম্পত্তির মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এখন বলিউড তারকাদের কাছে লাভজনক একটি কৌশলে পরিণত হয়েছে। মাধুরী দীক্ষিতের সাম্প্রতিক এই সম্পত্তি বিক্রিও সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ।
আরু||খব



