চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাঈদ হলের ক্যানটিনে পরিবেশিত তেহারিতে ইটের টুকরা পাওয়ার অভিযোগে ক্যানটিনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের অভিযোগের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে এ পদক্ষেপ নেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, আবাসিকদের জন্য হল ক্যানটিনই খাবারের প্রধান ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে খাবারের মান নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার রাতে এক শিক্ষার্থী তেহারি খাওয়ার সময় খাবারের মধ্যে ইটের টুকরা পান। এরপর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যানটিন বন্ধ করে দেন।
তাদের অভিযোগ, এর আগেও ক্যানটিনের খাবারে পোকামাকড়, বস্তার সুতা পাওয়া গেছে। এছাড়া চিকেন ফ্রাইয়ের ভেতরের অংশ কাঁচা থাকা, নষ্ট আটা দিয়ে পরোটা তৈরি, আগের দিনের অবিক্রিত পরোটা, শিঙাড়া ও পেঁয়াজু পরদিন গরম করে বিক্রি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, রান্নাঘর ও চা তৈরির স্থান স্বাস্থ্যসম্মত নয় এবং পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো—
- স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা।
- হল প্রশাসন বা ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তর অনুমোদিত মূল্যতালিকা প্রকাশ ও বাস্তবায়ন।
- রান্নাঘর ও চা তৈরির স্থান সংস্কার।
- খাবারের মান ও মূল্য নিয়মিত তদারকি।
- শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মনিটরিং কমিটি গঠন।
শিক্ষার্থীরা জানান, এসব দাবি পূরণ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত খাবারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত ক্যানটিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
এ বিষয়ে শহীদ আবু সাঈদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আজাদ হোসাইন বলেন, ক্যানটিনের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ এসেছে। আপাতত ক্যানটিন বন্ধ থাকবে। তিনি সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং খাবারের মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যানটিন পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
আরু||খব



