চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড তাজা গুলি।
সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে ২ আগস্ট সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকায় বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের দুই সহযোগী মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতার দুজন দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মতো অপরাধে জড়িত ছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১০টি মামলা এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩ আগস্ট রাত ২টা ৪০ মিনিটে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বসতঘরের পেছনে সেফটি ট্যাংকের পাশে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযান চালিয়ে আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. বোরহান ও মো. রনি।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই জোরারগঞ্জ থানার হিঙ্গুলী ইউনিয়নে নাজিম নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পরে গ্রেফতার বোরহানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়ির পাশের একটি ওয়ার্কশপে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ভাঁজ করা শাটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা একটি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর উৎস, ব্যবহার ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আরু/



