প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য দুটি মেগা সেতু নির্মাণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপানি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পুত্র সায়ীদ ইব্রাহিম আহমেদের উপস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সায়ীদ ইব্রাহিম আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি কোন আনুষ্ঠানিক পরিচয়ে বা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সুশাসন ও সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে কোনো মন্ত্রী বা প্রভাবশালী ব্যক্তির নিকটাত্মীয় সম্পৃক্ত থাকলে সেই সম্পৃক্ততার ধরন, দায়িত্ব এবং আইনি ভিত্তি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা জরুরি। এতে জনগণের আস্থা বজায় থাকে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ কমে।
এ পর্যন্ত যেসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সায়ীদ ইব্রাহিম আহমেদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় ও দায়িত্ব কী?
- তিনি কোন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন?
- কী প্রক্রিয়ায় তিনি জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন?
- সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত মূল্যায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
প্রকল্পটি কি আন্তর্জাতিক মানসম্মত, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে?
জননীতি বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্পে শুধু আইনগত বৈধতা থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বহু বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে, জনস্বার্থে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর জবাব এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি বিভিন্ন মহলে জোরালো হচ্ছে।
আরু/


