দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ৭০২ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। ফলে একদিনে মোট ৭৮৬ জন নতুন করে হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও এই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭৫৩ জনে পৌঁছেছে।
একই সময়ে নতুন করে ৮৪ জনের হাম শনাক্ত হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪১০ জনে। এছাড়া আরও ৭০২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় উপসর্গযুক্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬০১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৮৯ হাজার ৭৬২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে অবশিষ্ট রোগীরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে রোগটির বিস্তার ও জটিলতা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আরু/


