চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের কর্ণফুলী নদীর বঙ্গোপসাগর মোহনায় দুটি লাইটার জাহাজের সংঘর্ষে ‘এমভি বে হারবার-২’ নামে পাথরবোঝাই একটি জাহাজ ডুবে গেছে। তবে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া ১২ নাবিককেই জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড ও স্থানীয়রা।
সোমবার (২৯ জুন) রাত প্রায় ৩টার দিকে বন্দর চ্যানেলের ২ ও ৩ নম্বর বয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বন্দর ও কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, ঘন কুয়াশার মধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি লাইটার জাহাজের সঙ্গে ‘এমভি বে হারবার-২’-এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে জাহাজটির খোল ফেটে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই পাথরবোঝাই জাহাজটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় জাহাজে থাকা ১২ জন নাবিক সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একটি উদ্ধারকারী দল মেটাল শার্ক ও বিশেষ উদ্ধারকারী নৌযান নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। অভিযানে সমুদ্র থেকে আটজন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
অন্য চারজন নাবিক প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে পরে আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত এলাকায় পৌঁছান। সেখানে স্থানীয় জেলে ও সৈকতে থাকা লোকজন তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।
কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের এক কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পর রাতের অন্ধকার ও উত্তাল সাগরে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবুও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১২ জন নাবিককেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দেওয়া হয়েছে এবং তারা সবাই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জাহাজটি ডুবে গেলেও বন্দরের মূল নৌপথে জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে থাকায় বড় জাহাজ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় নৌযানগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে লাল বয়া বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরু/


