দেশজুড়ে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে।
শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন ছয়টি মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে চারজন এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৩ জন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৬১৫ জন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ৭৪৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলমান প্রাদুর্ভাবে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ জনে। একই সময়ে পরীক্ষাগারে আরও ৪৫ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৯৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮১ হাজার ৯৫৫ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৮ হাজার ২৮৭ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আরু/


