চার বছর ধরে কার্যত বহাল থাকা যুদ্ধবিরতি ভেঙে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা।
সোমবার সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
হুতিদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই অভিযান চালিয়েছে।
হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের আসির প্রদেশের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার না করারও সতর্কবার্তা দেন।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করেছে। হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবারই হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানায়, একটি ইরানি বিমানকে সানায় অবতরণ ঠেকাতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে হুতিরা এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে এবং একে “নগ্ন আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের প্রথম বড় ধরনের হামলা। ফলে ইয়েমেন সংঘাত আবারও পূর্ণমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহেও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
আরু/


