মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের আধুনিক ৯ এমএম পিস্তল দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ডিএনসির সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাদক পরীক্ষাগার, নিজস্ব হাজতখানা এবং প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য ডিএনসিকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষা ও অভিযান পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক ৯ এমএম পিস্তল সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জামও দেওয়া হবে।
তিনি জানান, অধিদপ্তরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপরাধী শনাক্তে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড এবং ডিএনসির নিজস্ব হাজতখানা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিচারকের স্বল্পতার কারণে শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ আদালত গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঔপনিবেশিক আমলের বিভিন্ন আইন বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই ১৮৬৭ সালের জুয়া-সংক্রান্ত আইনসহ পুরোনো আইনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ দমনে বিদ্যমান সাইবার আইন আরও কঠোর ও কার্যকর করার প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে আইন প্রয়োগ, বিচারিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আরু/


