লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে হৃদয়বিদারক এক হত্যাকাণ্ডে মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে একটি পরিবার। পাঁচ বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবাকে হারানোর পর এবার এক ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মা ও তিন বোন। পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য এখন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ, যিনি জীবিকার তাগিদে বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেলেও হারিয়েছেন নিজের পুরো পৃথিবী।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল প্রায় ১১টার দিকে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মিস্ত্রির পরিচয়ে প্রবেশ করে অন্তর মজুমদার। পরে ঘরের দরজা বন্ধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলেই নিহত হন গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার ছোট মেয়ে, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিফা (৯)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান বড় মেয়ে সায়মা (২০)। আর সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া নাফিজা আক্তার ইকরা (১৬) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান।
হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে তারও মৃত্যু হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান পরিবারের কর্তা। এরপর চার সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন শাহিনুর বেগম। বড় ছেলে জুনায়েদ পড়াশোনার পাশাপাশি একটি দোকানে কাজ করতেন মায়ের সংসারের হাল ধরতে।
ঘটনার দিনও সকালে কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন জুনায়েদ। ফিরে এসে তিনি দেখেন, যে ঘরে সকালে মা ও বোনদের হাসিমুখ দেখে বেরিয়েছিলেন, সেই ঘরজুড়ে শুধু রক্ত আর স্বজন হারানোর শোক।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে জুনায়েদ বলছিলেন, “আমি কেন বেঁচে রইলাম? এখন কার মুখ দেখে বাড়ি ফিরব?”
এক পরিবারের ওপর নেমে আসা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরু/


