স্টাফ রিপোর্টার (খাগড়াছড়ি) :
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার জালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রহিম মিয়া’র (প্রকাশ রহিম কোম্পানি) বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রামগড় উপজেলার ২ নং পাতাছড়া ইউনিয়নের অধীনস্থ ১১ মাইল এলাকায় বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ), খাগড়াছড়ি নামীয় ৫ একর টিলা ভূমির ১০৯ হোল্ডিং এর ৬৪৩ নং দাগের অংশ থেকে ২০টি মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করে দেন রহিম কোম্পানি।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে জানা যায়, মামলা নং ০১/৮৯ মূলে ৫ একর ৩য় শ্রেনীর জমি আবু তৈয়বের নিকট হইতে নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) নামে রেকর্ড করা হয় জালিয়াপাড়ার সন্নিকটে ১১ মাইলের মাহবুব নগর এলাকায়। এ সময় ইউপি সদস্য ইমাম হোসেন বাবুল জানান, এই জমি নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে।
উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের অনুমতি ছাড়াই সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে রহিম কোম্পানি। তারা অভিযোগ করে বলেন, ৩১২ নং হোল্ডিংয়ের ৬৩৬ নং দাগের ৪ একর ভূমি রহিম মিয়ার নামে রেকর্ড রয়েছে যার চৌহদ্দি উঃ-ননা মিয়া, দঃ- আব্দুল জলিল, পূর্বে:- ঝিরি, পঃ-ঝিরি। রহিম মিয়ার বিক্রিত গাছের রেকর্ডীয় ভূমি আর রহিম মিয়ার নামে রেকর্ডকৃত ভূমির চৌহদ্দির মধ্যে কোন মিল নেই বলে জানান তারা। বিক্রিত গাছ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নামে রেকর্ডকৃত ১০৯ হোল্ডিংয়ের ৬৪৩ নং দাগের জায়গার গাছ বলেই নিশ্চিত করেন উপস্থিত স্থানীয়রা।
রামগড় উপজেলা ভূমি অফিসসূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর নামে ৫ একর ভূমির রেকর্ড রয়েছে যার চৌহদ্দি হলো উত্তরে- আমির হোসেন, দক্ষিণে -প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্বে -ঝিরি, পশ্চিমে- প্রধান সড়ক।
সরকারি ভূমি থেকে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে রহিম মিয়া বলেন, আমার নিজ নামের ৩১২ নং হোল্ডিংয়ের ৬৩৬ নং দাগের ভিতরে থাকা ভূমির গাছ আমি বিক্রি করেছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাছ নয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ভূমির কাগজপত্র দেখতে চাইলে রহিম মিয়া কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
রহিম মিয়া আরও জানান, রামগড় পৌর মেয়র রফিকুল আলম কামাল এবং রামগড় থানার সাবেক ওসি মিজানুর রহমানের কাছে আমি গাছগুলো বিক্রি করেছি। এদিকে মেয়রের কাছে জানতে চাইলে তিনি গাছের বেচাকেনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের রামগড়ের সহকারী প্রকৌশলী জুথী চাকমা জানান, গাছ কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি এবং আমাদের অফিসের লোকজন সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার ছবি নিয়ে এসেছে। আমরা এবিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবো।
রামগড় উপজেলা বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানিনা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ গাছ কাটার বিষয়ে কোন তথ্য দেয়নি আমাদের।


