kbctgbd
৮ অক্টোবর ২০২৪ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
ফয়সাল হোসাইন সনি, বগুড়া প্রতিনিধিঃ
প্রশ্ন উঠেছে বগুড়া সদর থানাধীন সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম পুলিশ নাকি রাজাকার? ভাবছেন প্রতিবেদনের হেড লাইন ও প্রতিবেদনের শুরুতেই তাকে কেনো রাজাকার বলা হয়েছে। তাহলে পড়তে থাকুন জানতে পারবেন। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।
সারা দেশের ন্যায় বগুড়াতেও ১৬ই জুলাইয়ের আগেই শুরু হয়েছিলো কোটা সংস্কার আন্দোলন, সেই আন্দোলনে গুটি কয়েকজন ছাত্রদেরকে মাঠে দেখা গেলেও ১৬ই জুলাই থেকে শুরু হয় কঠোর আন্দোলন।
আজিজুল হক কলজ, জেলা স্কুলসহ জেলার প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই ১৬ই জুলাইয়ের দিন আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর সেই দিন ছাত্র-জনতার স্বাভাবিক আন্দোলনে ককটেল বিস্ফোরণ করে ছাত্র-জনতাকে ভয় দেখান ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা কর্মীরা। এই সময় কড়া নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শাহীনুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা। সেই দিন আন্দোলনের শুরুতে বগুড়ার সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শুভাশিস পোদ্দার লিটনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন একদল আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী, যাদের হাতে লাঠি শোটার পাশাপাশি রাম দা, বার্মিজসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। তাদেরকে ১৬ ই জুলাই আন্দোলনের শুরুতে দেখা গেলেও ছাত্র জনতার প্রভাব বেশি হওয়ার পর আর দেখা মেলেনি তাদের। ভাংচুর অগ্নিসংযোগ হবার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবার জন্য, তৎকালীন পুলিশ সুপার জাকির হাসান মাঠ পরিদর্শন করতে এলে সেই সময় আবারো দেখা মেলে সেই সব সন্ত্রাসী বাহিনীদের।
১৬ই জুলাই আন্দোলন চলাকালীন যমুনা টেলিভিশনের রিপোর্টার মেহেরুল সুজন আহত হন, কেনো সেই দিন তিনি আহত হয়েছিলেন? সাতমাথা থেকে সদর থানা রোডে তার উপরে আক্রমণ করা হয়েছিলো। আর যে কারণে আক্রমণ করা হয়েছিলো সেটির বিষয়টি ছিলো- সেই সময় সদর থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত শাহীনুজ্জামান শাহীনের নেতৃত্বে পুলিশের যেই টিম ছিলো সেই টিম পিছু পা হেটেছিলো কিন্তু সেই টিমে থাকা সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ সেই টিমের হলেও তিনি পিছু হাটেননি। সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ পিছু না হেটে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দ্বারা আন্দোলনরত ছাত্রজনতার ভিডিও ধারণ করে আর সেই ভিডিও ধারণ করা দেখেই হেলমেট পরিহিত সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদকে দেখে সাংবাদিক মনে করেন আন্দোলনকারী ছাত্রজনতা। সেই সময় ছাত্রজনতা তার দিকে এগিয়ে আসলে ওই সময় যমুনা টিভির রিপোর্টার মেহেরুল সুজন সামনের দিকে গেলে তার উপরেই হামলা করেন ছাত্ররা। তবুও থেমে থাকেননি সাব-ইন্সপেক্টর খোরশেদ। একে তো মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলেন, ঠিক সেই সময় ভিডিও ধারণের পাশাপাশি ছাত্রদের উদ্দেশ্য হুমকী দিয়ে সেই দিন ১৬ই জুলাই তিনি বলেন, ‘তোরা যে আন্দোলন করতেছিস তোদের সব কয়টার ফেস আমি চিনি, মাক্স পড়লেই কী তোদের চিনতে পারবো না। ভিডিও ফুটেজ দেখে এক এক করে সাইজ করবো।’ এই কথা বলার পড় আরও সহিংস হন ছাত্ররা। পড়ে সাংবাদিকদের আকুতি মিনতি আর ইন্সপেক্টর তদন্ত শাহীনুজ্জামান শাহীনের কড়া হুংকারে সেখান থেকে ফিরে আসেন সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম।
প্রশ্ন উঠেছে সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম ইউনিভার্সিটি জীবনে ছাত্রলীগ করতেন, আর সেই প্রশ্ন ওঠার পড়েই বগুড়া জেলাতেই থাকা তার খুব ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক তার ব্যাচমেট আরেক সাব-ইন্সপেক্টর বলেন, ‘খোরশেদ শুধু ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগ রাজনীতি নয় ও বগুড়ায় ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতার সাথে রাত বিরাতে ঘোড়াফেরা করতো এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলেও যেতেন।
গোপন সুত্রে জানা যায় সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম সৈরাচার আওয়ামী সরকারের ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সাথে বিভিন্ন স্থানে বসে মাদক সেবনের আড্ডায় মেতে উঠতেন। বিশেষ এক সূত্রে জানা যায়, পুলিশের মাদকাসক্ত পুলিশ সদস্যদের নামের তালিকাতেও রয়েছেন সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলমের নাম।
সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ শুধু যে ১৬ ই জুলাইয়ের দিনে ছাত্র জনতাকে টার্গেট করেছিলেন তা কিন্তু নয়। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ সরকার পতন হবার দিন পর্যন্ত সে একাত্তরের রাজাকারের মতো ২৪ এর ছাত্র জনতার কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজাকারের ভূমিকা পালন করেছিলেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন ৩ আগস্ট বগুড়ার প্রাণ কেন্দ্র সাতমাথায় পুলিশ ও ছাত্র জনতার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় মোবাইল দিয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজ ধারণ করছিলেন সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম। ঠিক সেই সময় পুলিশের এক ইন্সপেক্টর ভিডিও ধারণ করবার সময় তাকে গালি দেন। সেই ইন্সপেক্টর খোরশেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমাকে কী এখানে ভিডিও করবার জন্য পাঠানো হয়েছে, তুমি তোমার কাজ করো আর ভিডিও করা বন্ধ করো।’ কে শোনে কার কথা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তীর কাছাকাছি থাকায় ভালো প্রভাব ছিলো সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদের। কিন্তু পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী চলে যাবার পর জেলাতে আসেন জাকির হাসান। এই পুলিশ সুপারের কাছেও থাকতেন খোরশেদ। পুলিশ সুপারের কাছের হবার কারণে কে ইন্সপেক্টর কে সিনিয়র এগুলোকে তোয়াক্কা করতেন না সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম। গালি গালাজ খাবার পড়েও থেমে থাকেনি ভিডিও ফুটেজ করা। আন্দোলনে তার একটাই মিশন ছিলো ছাত্র জনতাকে চিহ্নিত করা।
দীর্ঘদিন আগে সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদের এই জেলা থেকে বদলী আদেশ হলেও এখান থেকে এখনো বিদায় নেইনি পুলিশের এই সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম। যেখানে পুলিশের পিআরবি মোতাবেক একজন পুলিশ সদস্য এক জেলাতে ৪ বছরের অধিক সময় থাকতে পারবেনা। সেখানে সাব ইন্সপেক্টর খোরশেদ আলম বগুড়া জেলাতেই প্রায় ৭ বছর ধরে কর্মরত আছেন। আজকে ছিলো প্রথম পর্ব পড়ের পর্ব গুলো পড়বার জন্য আমাদের সাথেই থাকবেন।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।