গত এক সপ্তাহে ডিম, মুরগি আর সবজির দাম বেড়েই চলেছে, যা সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ফার্মের বাদামি ডিমের দাম বেড়ে ডজন প্রতি ১৭০-১৭৫ টাকা হয়েছে, আর সাদা ডিমের দাম ১৬৫-১৭০ টাকা।
স্থানীয় মুদি দোকানীদের মতে, একটা ডিম এখন ১৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজন প্রতি ১০ টাকা এবং দুই সপ্তাহে ১৫ টাকা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিমের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে এবং স্থিতিশীলতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে অনেকেই ডিম কিনতে পারছেন না।
ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল কেজি প্রতি ১৮০-১৯০ টাকা, এখন তা বেড়ে ১৯০-২০০ টাকা হয়েছে। সোনালী মুরগির দাম কেজি প্রতি ২৮০-২৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০-৩০০ টাকা হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সরকার ডিমের সর্বোচ্চ দাম ডজন প্রতি ১৬৬ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি প্রতি ১৭৯.৫০ টাকা এবং সোনালী মুরগির কেজি প্রতি ২৬৯.৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও দামের ঊর্ধ্বগতি থামেনি।
এদিকে, আলু ও পেঁয়াজের দাম কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী।আলু এখন কেজি প্রতি ৬০-৬৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ১২০-১৩০ টাকা, আর আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১০৫-১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বৃদ্ধি রোধ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত মাসে আমদানি শুল্ক কমিয়েছে।আলুর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং আলু আমদানির ওপর ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক এবং পেঁয়াজের ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের তেমন কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি।
সবজির দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজি প্রতি ১০-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়েছে।
বেশিরভাগ সবজি এখন কেজি প্রতি ৭০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পটল ৭০ টাকায় পাওয়া গেলেও, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ওল কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
করলা, বেগুন এবং বরবটি ১০০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ২৬০-৩০০ টাকা কেজি হয়েছে।শীতকালীন শিম ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি এবং ছোট ফুলকপি প্রতি পিস ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রুই, তেলাপিয়া এবং পাঙ্গাসের মতো জনপ্রিয় মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার রুই ৩৫০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৫০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৮০-২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে, ইলিশের দাম কেজি প্রতি আরও ১৫০-২০০ টাকা বেড়ে ১,৬০০-২,৪০০ টাকা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে যাতে জিনিসপত্রের দাম থাকে, সেজন্য কঠোর নিরীক্ষণ এবং আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল খবরবাংলা২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন info@khaborbangla24.com ঠিকানায়।