মাসুদ রানা জামালপুর জেলা প্রতিনিধি:
জামালপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মাছিমপুর এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে অযু শেষে মসজিদে প্রবেশের পুর্বেই আরিফ হোসেন গংদের হামলায় মো. সাজু মিয়া নামে এক যুবক গুরুত্বর আহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় মাছিমপুর বাইতুল মামুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাজু মিয়া মাছিমপুর এলাকার মো. ফারুক হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জরিতদের বিচারের দাবিতে ফারুক হোসেন জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং-৭২/২৭৯, তারিখ-২৩/০৪/২০২৪ইং। মামলায় আসামী করা হয়েছে মাছিমপুর এলাকার মো. আলাল উদ্দিনের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (২৩) ও মো. আনন্দ (২৫), মো. আলাল উদ্দিন (৫০) পিতা অজ্ঞাত, আলাল উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. চাঁন বানু (৪৫) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনকে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, আসামীদের বাড়ী ও বাদীর বাড়ী পাশাপাশি। আসামীদের সাথে বাদীর ফুটবল খেলার বিষয় নিয়ে শত্রুতা ও মনোমালিন্য চলে আসতেছে। এরই জের ধরে ঘটনার সময় বাদী ফারুক হোসেনের ছেলে সাজু মাগরিবের নামাজ পড়ার জন্য মাছিমপুর বাতুল মামুর জামে মসজিদের উঠানে বসে অযু করার সময় সকল আসামীরা বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে ধারালো চাকু, ধারালো রাম দা, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাজুর উপর অতর্কিতভাবে আক্রমন করে। হামলায় ১নং আসামী আরিফ হোসেনের হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়ে সাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারেন। ওই কোপে সাজুর মাথার বাম পার্শ্বে চিপায় লাগে এবং গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। সেই সুযোগে ২নং আসামী আনন্দের হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়া সাজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিছন সাইটে আঘাত করে। সেই আঘাতে সাজুর পিঠের ডান পার্শ্বে লেগে গুরুত্বর রক্তাক্ত কাটা জখম হয়। এসময় বাদীর ছেলে সাজু মাটিতে পরে গেলে সকল আসামী মিলে বাদীর ছেলের বুকে ও পেটে এলোপাথারি ভাবে কিল ঘুসি ও লাথি মেরে মারাত্মক বেদনা দায়ক নিলা ফুলা জখম করেন। ৩নং আসামী আলাল উদ্দিন সাজুর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তার বুকের উপর বসে দুই হাত দিয়ে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাস রুদ্ধের চেষ্টা করে। সেই সময় বাদীর ছেলে সাজুর প্যান্টের ডান পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৫৫,০০০/- (পঞ্চান্ন হাজার) টাকা ১নং আসামী আরিফ হোসেন বের করে নেয়। এক পর্যায়ে পথচারীসহ সাক্ষীগন এগিয়ে এসে আসামীদের হাত বাদীর ছেলেকে রক্ষা করে। এমন সংবাদে বাদী ফারুক হোসেন গুরুত্বর আহত সাজু মিয়াকে দ্রæত অটোরিক্সাযোগে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী ফারুক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তারা এতটাই নিকৃষ্ট সামান্য ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মসজিদে নামাজ পরার পুর্বেই অযু করার সময়ে আমার ছেলেকে হত্যার চেষ্টা চালায়। তাদের হামলায় গুরুতর আহতাবস্থায় আমি সাজু মিয়াকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করাই। আমার ছেলের অবস্থা আশংকাজনক হয়ে পরলে চিকিৎসকরা তার পরের দিনই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বর্তমানে আমার ছেলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। আমি এমন নিকৃষ্টতম হামলায় জরিতদের দ্রæত গ্রেপ্তারপুর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।


