দেশের স্বাস্থ্যসেবা আরও জনবান্ধব ও প্রতিরোধভিত্তিক করতে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গঠন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর নিপসম (NIPSOM) মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধু চিকিৎসানির্ভর না রেখে প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে অসংক্রামক রোগ, যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো শক্তিশালী করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এ জন্য স্বাস্থ্যখাতে জনবল, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পেশাজীবনের শুরু থেকেই দায়িত্বশীলতা, সততা ও মানবিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। কারণ অসহায় মানুষের শেষ ভরসাস্থল চিকিৎসক, তাই তাদের দায়িত্বশীল আচরণই মানুষের আস্থা তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে দক্ষ গবেষক তৈরিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেনটিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন (নিপসম) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, রোগ প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি হেলথ কার্ডের সঙ্গে কার্যকর রোগী রেফারেল সিস্টেম সমন্বয় করা প্রয়োজন। এতে রোগীরা দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা পেতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে।
আরু/


