দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের নিয়মে পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটিতে পর্যটকেরা ভ্রমণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে দৈনিক পর্যটক যাওয়ার অনুমোদিত সংখ্যা ২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি হিসেবে ১০০ টাকা দিতে হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
চিঠিতে পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমনসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। এর ফলে আগের নিয়মে পর্যটক চলাচল বন্ধ রাখার কথা থাকা ফেব্রুয়ারি মাসেও ভ্রমণ করা যাবে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনে দৈনিক গড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার পর্যটক যাওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। অর্থাৎ, দৈনিক অনুমোদিত পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে ১ হাজার ৫০০, যা আগের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি।
আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা দিনে গিয়ে একই দিনে ফিরে আসতেন। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ছিল রাত্রিযাপনের সুযোগ। আর ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ রাখার বিধান ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ানো হলেও কোন মাসে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকবে, সে বিষয়ে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এদিকে, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল রাখা হয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়, এমন কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ থাকবে।
এ ছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে।
নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার ও ট্যুরিস্ট পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সেন্টমার্টিনের পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং নৌযান চলাচলের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
পর্যটকের সংখ্যা ও ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিধিনিষেধ বহাল রাখার মাধ্যমে সেন্টমার্টিনে পর্যটন এবং দ্বীপের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের মধ্যে সমন্বয় রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
আরু|



