চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার ঘটনায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কফিলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি পটিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
সোমবার রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
সংগঠনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে’ জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কফিলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার (৩১ মে) দুপুরে পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে আটক হন মিজানুর রহমান কফিল (৩৭)।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ওই বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলেন। পরে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে কফিলকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক নারীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় স্থান ত্যাগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুরব্বিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একটি লিখিত মুচলেকা নেওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর কফিলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান কফিল। তার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, তিনি একজন আত্মীয়ের বাড়িতে ব্যক্তিগত একটি লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।



