কোচের সঙ্গে বিরোধের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তি পেয়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল।
সোমবার ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ সেপ্টেম্বর। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে পুরো সময় বেঞ্চে বসে ছিলেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তাঁর অভিযোগ, কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে মাঠে খেলার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ওয়ার্ম-আপ করানোর পরও তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি।
এ নিয়ে অসন্তোষের জেরে ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ অধিনায়ক। তবে রোনালদোর সঙ্গে খেলার সময় নিয়ে কোনো চুক্তি হয়েছিল এমন দাবি অস্বীকার করেন কোচ জর্জ জেসুস।
পরবর্তীতে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান রোনালদো। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া এবং ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানানোর বিষয়টি ভুল ছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে শাস্তি মেনে নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেন এই তারকা ফুটবলার।
ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল তদন্ত শেষে রোনালদোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত বলে জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে এবং আগে থেকে কার্যকর থাকা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার সময় চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদে গণনা করা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্তে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিরোধের অবসান হলে রোনালদোকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে আগ্রহী ফেডারেশনের সংশ্লিষ্টরা। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে রোনালদোকে দলে দেখা যাবে কি না, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।
সূত্র: রয়টার্স, গোল ডটকম ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম।
আরু|



