বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসান শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নজরে এসেছেন। টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করায় তাকে শুনানির জন্য তলব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে জাতীয় দলে নিজের অনিয়মিত সুযোগ পাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন শেখ মেহেদী। তার ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই বোর্ডে আলোচনা শুরু হয়।
বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা একজন ক্রিকেটার হিসেবে গণমাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করতে হয়। সেই নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা যাচাই করতেই মেহেদীকে শুনানিতে ডাকা হবে।
বিসিবির এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা তাকে শুনানির জন্য ডাকব। কারণ একজন চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হিসেবে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে সে মনে হচ্ছে সেই নিয়ম ভঙ্গ করেছে।”
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতে একটি উইকেট নেন শেখ মেহেদী। তবে পরবর্তী দুই ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি তার।
সিরিজ শেষে এক সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের হতাশার কথা তুলে ধরে শেখ মেহেদী বলেন, “আক্ষেপ তো থাকেই। আমি একজন ক্রিকেটার। আমি শুধু টি-টোয়েন্টি খেলি, কিন্তু এখানেও আমি নিয়মিত নই। বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচের প্রয়োজন বা কম্বিনেশনের কারণে আমি বাদ পড়ে যাই। এটা অবশ্যই হতাশাজনক। যদি আমি নিয়মিত খেলতে পারতাম, তাহলে আগের চেয়ে আরও ভালো পারফর্ম করতে পারতাম।”
মেহেদীর এই বক্তব্যের পর ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিসিবি মনে করছে, কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের প্রকাশ্য মন্তব্যে বোর্ডের আচরণবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুনানিতে তার বক্তব্য শোনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, শুনানির তারিখ শিগগিরই নির্ধারণ করা হবে।
আরু/


