বিদেশ সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিরাপত্তা নিয়ে নেওয়া হয় কড়া গোপনীয়তা। এমনকি সফর শেষে তার ব্যবহৃত মল-মূত্রও বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যাতে পুতিনের শারীরিক অবস্থা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য তার বর্জ্য পরীক্ষা করে জানতে না পারে, সে কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুতিনের নিরাপত্তারক্ষীরা তার ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ করে বিশেষভাবে সিলগালা করা ব্রিফকেসে রাখেন। পরে সেটি বিমানে করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। ২০১৭ সালে ফ্রান্স, ২০১৯ সালে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা সফরের সময়ও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার সাবেক সাংবাদিক ফরিদা রুস্তমোভার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৯৯ সালে ক্ষমতার শীর্ষে আসার পর থেকেই পুতিনের বিদেশ সফরে এ ধরনের সতর্কতা অনুসরণ করা হচ্ছে। সফরের সময় তার জন্য বিশেষভাবে বহনযোগ্য টয়লেটও রাখা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পুতিনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেক্টিভ সার্ভিস (এফএসও) এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। তার প্রকাশ্য নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি বিশেষ প্রশিক্ষিত প্রেসিডেন্সিয়াল সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্যরাও নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন।
এ ছাড়া পুতিনের খাবার নিয়েও রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাবার তৈরির আগে উপাদান পরীক্ষার পাশাপাশি পরিবেশনের আগে খাবার নিরাপত্তারক্ষীদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।
বিদেশ সফরে পুতিনের যাতায়াতেও থাকে বিশেষ নিরাপত্তা। তার জন্য ব্যবহৃত সুরক্ষিত গাড়ি ও বিশেষ বিমানগুলোতে জরুরি চিকিৎসা, নিরাপদ যোগাযোগসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহের এই পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা হলেও, এসব তথ্যের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরু|



