২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে শোক ও হতাশার চিত্র দেখা গেছে। এই ধাক্কা সইতে না পেরে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনার জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা (SAME)। এছাড়া আরও একজন বৃদ্ধ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইনফোবায়ে ও আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বুয়েনস আইরেসের মনসেরাত এলাকায় একটি বাসা থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করা হয়। সেখানে ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে ৮৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হলে তার পরিবারের সদস্যরা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেন। সিপিআর দেওয়ার পর তাকে ডুরান্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এদিকে, ৭২ বছর বয়সী আরও এক ব্যক্তি বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে আলভারেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন।
শুধু স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতিই নয়, ফাইনালের পর বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা থেকে বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটে। সেখানে কয়েকজন আহত হয়েছেন। লাভালে ও নুয়েভে দে হুলিও (৯ দে হুলিও) অ্যাভিনিউয়ের মোড়ে ৪৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রায় ৪ মিটার (১৩ ফুট) ওপর থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তার বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ম্যাচের ফলাফলে হতাশ হয়ে অনেক সমর্থক অতিরিক্ত মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া ধাক্কাধাক্কি, মারামারি এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তবে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মৃতদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সরাসরি বিশ্বকাপ ফাইনালের পরাজয়কে দায়ী করেনি।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তারা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে ম্যাচের ফলের কারণে সৃষ্ট মানসিক চাপ পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরু/


