রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮৪ জনকে আটকের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ঘটনায় কার কী পরিচয়, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবস্থা তো নেওয়া হয়েছে, তাঁকে সংযুক্ত করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রসিডিং চালু হবে। আমরা আইনানুগ সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করব। এখানে কার কী পরিচয়, সেটা আমরা দেখব না।’
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির পুলিশ সদর দপ্তরের মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরুর কথাও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে গত সোমবার মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উত্তরা বিভাগের একটি দল ভাটারার পুলিশ হাউজিং-১ আবাসিক এলাকার তিনতলা ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটিতে অবৈধভাবে মাদক সেবন ও ডিজে পার্টির আয়োজন চলছিল।
অভিযানে বাড়িটি থেকে গাঁজা, ইয়াবা, মদ এবং ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়, যাঁদের মধ্যে ২৬ জন নারী।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির অনলাইনের মাধ্যমে বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন। ভাড়াটেরা বাড়িটি মাদকসংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করতেন বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় বিবেচনা না করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরু|



