দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে চলমান বিশেষ অভিযানে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে গত ১০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৮ হাজার ৩২৮ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবার এবং দেশের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার কিছু অপচেষ্টার প্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠ পর্যায়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধ দমনে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নীতি বা ‘জিরো টলারেন্স’ বজায় রাখা হচ্ছে।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ সবচেয়ে বেশি কঠোর ভূমিকা পালন করেছে। নিচে অপরাধের ধরন ও গ্রেপ্তারের বিস্তারিত পরিসংখ্যান দেওয়া হলো:
মাদক ও চোরাচালান: দেশের মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সবচেয়ে বড় আঘাত হানা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৩,০২০ জন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ছিনতাই ও ডাকাতি: জননিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ছিনতাইকারী, দস্যু ও ডাকাত দলের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২,২১১ জন।
অস্থিতিশীলতা তৈরিতে জড়িত: দেশের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, পরিকল্পনাকারী এবং তাদের সহযোগী হিসেবে মোট ১,৯৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি: সাধারণ ব্যবসায়ী এবং জনগণকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর দায়ে ৮০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অবৈধ অস্ত্রধারী: জননিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ অবৈধ অস্ত্র বহন এবং মজুত রাখার অপরাধে ৩৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অভিযানের প্রভাব ও জনমনে প্রতিক্রিয়া এই বৃহৎ অভিযানের ফলে শহর ও মফস্বল এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে মাদক বিরোধী অভিযানের ফলে অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদক ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হলে দীর্ঘমেয়াদে অপরাধের মাত্রা আরও কমে আসবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব। অপরাধীরা দেশের যেকোনো প্রান্তে লুকিয়ে থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আসতে হবে। চলমান এই বিশেষ অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে অপরাধীদের মূল উৎপাটনে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে
আরু/



