খেলনা বলে ঘোষণা, কিন্তু চালান খুলতেই মিলল বিপুলসংখ্যক ড্রোন। ঢাকার চকবাজারের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা চালান থেকে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ১ হাজার ৯৮০টি ড্রোন আটক করেছে ঢাকা আইসিটি কাস্টমস হাউস।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা আমদানির ঘোষণা দিয়ে চালানটি আনা হয়েছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কায়িক পরীক্ষা চালিয়ে ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ড্রোনগুলো শনাক্ত করা হয়।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চকবাজারের ‘মিম কালেকশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ২৭ সেপ্টেম্বর বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে চালানটি আমদানির ঘোষণা দেয়। ঘোষণায় রিচার্জেবল রিমোট কন্ট্রোল খেলনাসহ বিভিন্ন পণ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির কায়িক পরীক্ষা করা হলে সেখানে ১ হাজার ৯৮০টি ড্রোন পাওয়া যায়। ড্রোনগুলোর মোট ওজন ৬৫৮ কেজি। কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে, এসব ড্রোনের মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ড্রোনগুলো আমদানি নিয়ন্ত্রিত পণ্য কি না এবং এগুলোর উড্ডয়ন সীমা কত তা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রোন আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঢাকা আইসিটি কাস্টমস হাউসের কমিশনার কাজী মুহাম্মদ জিয়াউদ্দীন বলেন, আমদানি নীতিবহির্ভূত পণ্য প্রবেশ এবং রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে কাস্টমস হাউস ও আইসিডি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আমদানিকারকের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের মিল রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কায়িক পরীক্ষা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রাজস্ব ও জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অর্থাৎ, খেলনার ঘোষণা দিয়ে আনা হলেও শেষ পর্যন্ত চালান থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রায় দুই হাজার ড্রোন। এখন এসব ড্রোন আমদানির বৈধতা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
আরু|



