কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাস চালানোর সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন চালক শাহজাহান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও হারাননি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ। নিজের জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাসটি নিরাপদে সড়কের পাশে থামান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি তাঁকে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন এই চালককে।
মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১১টার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এলাকায়।
জানা যায়, ‘লাল সবুজ’ পরিবহনের বাসটি কক্সবাজার থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। পথে জোয়ারিয়ানালা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন চালক শাহজাহান। নিজের শারীরিক অবস্থা খারাপ বুঝতে পারলেও তাৎক্ষণিকভাবে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারাননি তিনি। বরং অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বাসটি সড়কের পাশে নিরাপদ স্থানে থামিয়ে দেন।
পরে বাসের সুপারভাইজার, সহকারী ও যাত্রীরা দ্রুত তাঁকে ঈদগাঁও স্টেশনের পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা শাহজাহানকে মৃত ঘোষণা করেন।
চালকের এমন দায়িত্ববোধ ও বিচক্ষণতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাসের সব যাত্রী। অসুস্থ অবস্থাতেও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে গেছেন তিনি।
একজন চালকের দায়িত্ব শুধু গাড়ি চালানোতেই সীমাবদ্ধ নয়, যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াও তাঁর বড় দায়িত্ব। শাহজাহান সেই দায়িত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন। তাঁর এই সাহসিকতা ও পেশাদারত্বের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অনেকে।
শাহজাহানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবারে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আরু|



