দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিনব্যাপী সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
বিমানবন্দরে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের বাইরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। বৃষ্টি উপেক্ষা করেও নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এই সফরে তারেক রহমান মোট ১১টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। সফরসূচি অনুযায়ী তিনি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় যান। সেখানে তিনি তার পিতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে তিনি পথসভায় বক্তব্য দেন।
এরপর তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে তিনি পেকুয়া উপজেলায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।
পেকুয়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
সফরের শেষ পর্যায়ে তিনি কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।
এদিকে এই সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরের এই রাজনৈতিক সফরকে ঘিরে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
আরু/



