অবসরে যাওয়ার মাত্র দুই দিন আগে সিলেট নগরীর নিজ বাসা থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গভীর রাতে নগরীর বাগবাড়ি এলাকার নরসিংটিলা মহল্লার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মনোজ কান্তি দাস (৫৫) নামে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে এবং দীর্ঘদিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকে তিনি শ্বশুর-শাশুড়ি ও সন্তানদের সঙ্গে একই বাসায় বসবাস করলেও দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে একাই থাকতেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতের ডিউটি শেষে বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে যান মনোজ কান্তি দাস। এরপর মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি কোতোয়ালি মডেল থানাকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা কক্ষের দরজা ভেঙে প্রবেশ করেন। সেখানে ঘরের মেঝেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, উদ্ধারকালে মনোজ কান্তি দাসের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আরু/


