গ্রীষ্মকাল হলো ফলের মৌসুম। এই সময় আমরা প্রায় সবাই বিভিন্ন ফল খাই, কিন্তু এর খোসা ও বীজ সাধারণত ফেলে দিই। তবে অনেক ফলের এই উচ্ছিষ্ট অংশও খাদ্য ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়। স্বাস্থ্যকর নাস্তা, পানীয় এমনকি ঘরোয়া উপাদান তৈরিতেও এগুলো কাজে লাগে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ফলের কোন অংশ কীভাবে ব্যবহার করা যায়—
১. তরমুজের খোসার সবজি
তরমুজের লাল শাঁসের নিচে থাকা সাদা অংশটি রান্না করে খাওয়া যায়। এজন্য প্রথমে সবুজ বাইরের খোসা ছাড়িয়ে সাদা অংশ ছোট ছোট টুকরো করে কাটতে হবে। এরপর সাধারণ সবজির মতো মসলা দিয়ে রান্না করলে এটি রুটি, পরোটা বা ভাতের সঙ্গে খেতে সুস্বাদু হয়।
২. তরমুজের বীজের নাস্তা
তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর। বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে সামান্য ঘি, ব্ল্যাক সল্ট, চাট মসলা ও ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে ভেজে নিলে এটি মুচমুচে নাস্তা হিসেবে খাওয়া যায়। স্বাদে এটি অনেকটা বাদামের মতো এবং চাটের টপিং হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
৩. লেবু ও কমলার খোসার গুঁড়া
লেবু বা কমলার খোসা রোদে বা কম আঁচে শুকিয়ে গুঁড়া করে রাখা যায়। এই গুঁড়া কেক, চা, ডেজার্ট ও ম্যারিনেডে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। তাই এসব খোসা ফেলে না দিয়ে সংরক্ষণ করা ভালো।
৪. লেবুর খোসার ক্যান্ডি
লেবু বা কমলার খোসা সেদ্ধ করে চিনি দিয়ে রান্না করলে সুস্বাদু ক্যান্ডি তৈরি হয়। এটি খাওয়ার পর মুখ সতেজ রাখে এবং ঘরোয়া ডাইজেস্টিভ হিসেবে কাজ করে। ক্যান্ডিগুলো দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
৫. ফলের খোসার ভিনেগার
আপেল, নাশপাতি, আনারস বা বেরি জাতীয় ফলের খোসা ও অবশিষ্ট অংশ দিয়ে ঘরে তৈরি ভিনেগার বানানো যায়। পানি ও চিনি মিশিয়ে গাঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে এটি টক-মিষ্টি ভিনেগারে পরিণত হয়। যা সালাদ, ম্যারিনেড এমনকি ঘর পরিষ্কারের কাজেও ব্যবহার করা যায়।
৬. কমলার খোসার চাটনি
কমলার খোসায় হালকা মিষ্টি-তিক্ত স্বাদ থাকে, যা দিয়ে চাটনি তৈরি করা যায়। খোসা সেদ্ধ করে তেতো ভাব কমিয়ে গুড়, তেঁতুল, শুকনা মরিচ ও ভাজা জিরার সঙ্গে ব্লেন্ড করলে একটি ঝাল-টক-মিষ্টি চাটনি তৈরি হয়, যা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।
এইভাবে সাধারণত ফেলে দেওয়া ফলের অংশগুলোও সৃজনশীলভাবে ব্যবহার করে সুস্বাদু ও উপকারী খাবারে রূপান্তর করা সম্ভব।



